ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

৩৬তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ৩৪

লারা : আন্টির ওপরে রাগ করিস থাকিস না রুদ্র। আন্টি তোকে অনেক ভালোবাসে। সে হয়তো বুঝতে পারেনি তার কথাতে.....'

লারার কথা শেষ হওয়ার আগেই রুদ্র বিরক্ত গলায় বলে উঠলো,,

"আমি কি তোর থেকে কোনো জ্ঞান নিতে চেয়েছি??"

রুদ্রর কথায় লারা লজ্জা পেলো হয়তো। মলিন হেঁসে আবার বলল,,

"আমি তো তোকে জ্ঞান দিতে চায়নি। শুধু বোঝাতে চেয়েছি- একবার আন্টির জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখ, আন্টি ভুল নয়। তার জায়গায় সে ঠিক!"

"তাই বলে, সে হিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে? তার তো এতোটুকু বোঝা উচিত ছিলো- এতোকিছুর পরও তার ছেলে যখন তার বউকে বের করেনি, তখন তারও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলাটা উচিত হবে না!"

"তুই হিয়াকে ভালোবাসিস রুদ্র। হিয়ার উপরে তোর রাগ,অভিমান,ক্ষোভ আছে ঠিকই! তবে এই সবকিছুর উর্ধে গিয়ে- হিয়ার প্রতি তোর গভীর ভালোবাসা আছে। যেটা সবার নাও থাকতে পারে!"

লারার কথায় কিছুটা শান্ত হয়ে, রুদ্র একবার মলিন চোখে তাকালো তার দিকে। তা দেখে লারা আবার বলল,,

লারা এবার গলা নরম করল,

“তুই এই ঘটনাগুলোর ভেতর দিয়ে গেছিস ধীরে ধীরে। কষ্ট পেতে পেতে সহ্য করতে শিখেছিস। কিন্তু আন্টি? উনি একদিনেই সব শুনেছেন। তোর মুখ থেকে।

"তাছাড়া, তোর সাথে ঘটা এই ঘটনাগুলোর ভিক্টিম তুই। তুই অভ্যস্ত হয়ে গেছিস এই সবকিছুর সাথে। কিন্তু, আন্টি? আন্টি তো পুরা হুট করেই তোর সাথে হওয়া অন্যায়গুলোর কথা জানতে পেরছে। তাও, আবার তোর মুখ থেকে। তাহলে, আন্টির এভাবে রিয়্যাক্ট করাটা কি স্বাভাবিক না? আর সে তো শুধু রিয়্যাক্ট করেনি, রিয়্যাক্ট করার পাশাপাশি সে তো অনেক কষ্ট পেয়েছে তাই না? তুই প্লিজ আর আন্টির ওপরে অভিমান করে থাকিস না।"

কিছুক্ষণ চুপ থেকে রুদ্র বেশ শান্তভাবে জবাব দিলো,,

"আমি আম্মুর ওপরে রাগ করে নেই লারা। আমি জানি, আম্মু যেটা করেছে সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। আম্মু নিজেও হিয়াকে খুব ভালোবাসতো। হিয়ার চলে যাওয়াতে, আর পরপর জানতে পারা এই ঘটনাগুলোতে আম্মু নিজেও যে খুব কষ্ট পাচ্ছে সেটা আমি জানি। কিন্তু, আমিই বা কি করবো বল- আমি হিয়াকে ছাড়া স্বাভাবিক হয়ে থাকতে থাকতে পারছি না। দম বন্ধ আসছে আমার ওকে ছাড়া!"

-

ক্লান্ত শরীর, এলোমেলো শার্ট আর বিশৃঙ্খল চুলে— রাত প্রায় বারোটার দিকে বাড়িতে ফিরলো রুদ্র। এরপরে গায়ের কোটটা কাঁধে ঝুলিয়ে টলমলে পায়ে সিঁড়ি বেয়ে, সোজা চলে গেলো নিজের রুমে। কোটটাকে বেডের ওপরে ছুঁড়ে দিয়ে, সে নিজেও ধুপ করে বসে পড়লো সেখানে। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছায়া স্পষ্ট!

কিছুক্ষণ পরে উঠে দাঁড়িয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো ওয়ালের দিকে। যেখানে 'তার আর হিয়ার' হাস্যোজ্জ্বল একটা কাপল ফ্রেম ঝুলানো। টানা কয়েক সেকেন্ড ফ্রেম'টার দিকে তাকিয়ে থেকে। একপর্যায়ে সে ক্লান্ত সুরে বলতে শুরু করলো-

"আজকে ১৯টা দিন হয়ে গেলো হিয়া- তুমি আমার সাথে নেই। তোমার শরীরের গন্ধ, স্পর্শ, হাসির শব্দ এই কোনো কিছুই আর আমার আশেপাশে নেই। হুট করে তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে বলো তো? আমি কোথায় গেলে খুঁজে পাবো তোমাকে বলো!'

এই ১৯টা দিন আমি কোথায় কোথায় না খুঁজেছি তোমাকে। কিন্তু, তুমি কোথাও নেই! তোমার কথা বলা ধরণ, তোমার হাসির শব্দ, তোমার দুষ্টুমি এই সবকিছুকে ভীষণ ভাবে মিস করছি আমি হিয়া। বুঝতে পারছি না, কোথায় গেলে তোমাকে খুঁজে পাবো। তোমার শরীরের গন্ধ পাবো!"

একটু সময় থামলো রুদ্র, তারপর চোখ ভর্তি পানি আর মুখে তাচ্ছিল্য হাসি টেনে আবার বলল,,

"জানো হিয়া! তুমি যখন আমার সাথে ছিলে, তখন আমি কখনোই তোমাকে এভাবে অনুভব করিনি! সবসময় ভেবেছি, তোমার প্রতি হয়তো আমার একটা মায়া আছে। কিন্তু, আগের মতো ভালোবাসা'টা আর নেই। এখন হয়তো, আমি তোমাকে ঘৃণা করতে শিখেছি। তুমি আমার কাছে আছো, এটা আমার জন্য ভালো। কিন্তু, তুমি না থাকলে হয়তো আমার তেমন কোনো ফারাক পড়বে না। হয়তো, কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে, তবে আমি নিজেকে সামলে নিতে পারবো! কিন্তু, আজ যখন তুমি নেই......'

এতোটুকু বলে থামলো রুদ্র। তারপরে ফ্রেমে থাকা হিয়ার মুখের ওপরে হাত বুলাতে বুলাতে পুনরায় বলল,,

" ফিরে এসো হিয়া, ফিরে এসো। প্লিজ, আর একবার আমার কাছে ফিরে এসো। আমাকে ভালোবাসার জন্য না হোক, আমাকে জ্বালানোর জন্য হলেও এসো। আমি কথা দিচ্ছি, আমি আর কখনো তোমার সাথে রুড বিহেভ করবো না। অতীতের সবকিছু ভুলে, আমি নতুন করে ভালোবাসবো তোমাকে। শুধু তুমি একবার ফিরে এসো আমার কাছে। প্লিজ হিয়া... প্লিজ....!"

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে, হিয়ার ছবিটাকে বুকে জড়িয়ে রুদ্র যখন ফ্রেমটা দেয়াল থেকে নামানোর চেষ্টা করলো, ঠিক তখনই ফ্রেমের পেছন থেকে একটা ডায়েরি এসে পড়লো তার পায়ের কাছে।

আচমকা ঘটনাটা ঘটতেই রুদ্রর অনুভূতিতে যেন অদ্ভুত এক পরিবর্তন এলো। বিস্ময়ে তার কপালে ভাঁজ পড়লো। ফ্রেমটা আগের জায়গায় রেখে সে নিচু হয়ে ডায়েরিটা তুলে নিলো।

লাল-কালো রঙের ডায়েরিটার ওপরে গোঁটা গোঁটা অক্ষরে লেখা— ❝সে ছিলো অন্যরকম❞

নামটা চোখে পড়তেই রুদ্রর বুকের ভেতরটা অকারণে ধক করে উঠলো। যেন পরিচিত কোনো স্মৃতি হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়েছে! কিছু সময় নীরব থেকে সে কিছু একটা ভাবলো। এরপরে, একরাশ কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে সে ডায়রিটা খুললো। যেখানে প্রথম পৃষ্ঠাতেই ছিলো..

রুদ্র আর একটা ছোট্ট পিক। যেখানে রুদ্র হাঁটু গেড়ে বসে হিয়াকে ফুল দিচ্ছিলো। আর তার ঠিক নিচে সুন্দর করে লেখা ছিলো-

❝তুমি আমার সেই ফুল, যাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করাটা ছিলো আমার প্রথম ভুল!❞

রুদ্রর বুঝতে আর বাকি রইলো না, এটা হিয়ার ডায়েরি। আর এরপরেই তার কৌতূহল যেন আরো কয়েকশ গুণ বেড়ে গেলো। সে ডায়েরি টা নিয়ে ধুপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো। প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে, প্রায় মাঝথেকে পড়তে শুরু করলো,,

ডায়েরি..❣️

পৃষ্ঠা নং-২৯..

আমার জীবনের সবথেকে বড় ধাক্কাটা হয়তো আমি আজ খেয়েছি। চাচ্চুর মতে, আমার মায়ের খু*নীর সাথেই আমি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছি! অথচ, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না- আমার ভালোবাসার মানুষ'টিই আমার পরিবারের এমন অবস্থার জন্য দায়ী। আমার জানা মতে- আমার রুডি বয় সহজ-সরল আর ভালাভোলা ছিলো, তাহলে তার এমন ভয়ংকর রুপ কিভাবে বের হলো??'

পৃষ্ঠা নং-৩৫....

বেশ কয়েকদিন যাবৎ চাচ্চু আমাকে অনেক চাপ দেয়, যেন আমি আমার মায়ের মৃত্যু আর বোনের সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নেই। আর পরশু তো তিনি সরাসরি গান দিয়ে দিলেন আমার হাতে। যেন এটার মাধ্যমে আমি শেষ করতে পারি রুদ্রকে। কিন্তু, যখনই আমি চাচ্চুর এই কাজে ভয় পেয়ে গেলাম। তখন চাচ্চু আমার সামনে অনেক কান্নাকাটি করলো। প্রমাণ স্বরুপ, আমাকে কিছু ফুটেজ দেখালো। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো, রুদ্র আমার মা'কে বারবার চাকু মেরেছে। ফুটেজ টা দেখার পর থেকে, আমি যেন ভয়ে স্তব্ধ হয়ে আছি।'

পৃষ্ঠা নং-৩৯...

আজ প্রায় ১৫দিন হতে চলল, আমি রুদ্রর সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি! এই ১৫দিনে রোজ রাতে ঘুমানোর আগে সেই ফুটেজ গুলো চেক করেছি। হ্যাঁ, যে ব্যক্তিটা আমার মা'কে ছুরি মেরেছিলো- সেটা রুদ্রই ছিলো। আমার ভয়গুলো এখন কেন জানি জেদে পরিণত হয়েছে। রুদ্র'র ওপরে খুব ঘৃণা হচ্ছে আমার। সে আমার ময়ের খু*নী।'

পৃষ্ঠা নং- ৪১...

কাল বিকেল পাঁচ টায় একটা নির্জন স্থানে, আমি রুদ্রকে ডেকেছি। ঠিক করেছি- আমি কালই আমার প্রতিশোধ পূরণ করবো। নয়তো এই দায়িত্ব আমার পিছু ছাড়ছে না। চাচ্চু কাল রাতে আমাকে একটা চাকু দিয়েছে- যেটা দিয়ে আমার মা'কে আঘাত করা হয়েছিলো। আমি চাচ্চুকে কথা দিয়েছি- আমার মায়ের মৃত আত্না আর তার মেয়ের জীবিত আত্নার স্বস্তিতে- আমি নিজ হাতে শাস্তি দিবো রুদ্রকে।'

পৃষ্ঠা নং- ৪২...

আমি আজ রুদ্র'কে আঘাত করতে পারিনি। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ও একা এসেছিলো। কিন্তু, আমি ওকে আঘাত করতে পারিনি। ওকে দেখার পর আমার নিজেকে খুব দুর্বল মনে হচ্ছিলো। বারবার মনে হচ্ছিলো, এই ছেলেটা আর যা-ই করুক। কাউকে হ*ত্যা করে পারে না। সে খুব ভালোবাসে আমাকে!'

পৃষ্ঠা নং- ৪৭...

আমি প্রেগনেন্ট!! কিছুদিন যাবৎ দুর্বলতার কারণে- আজ যখন চাচ্চু ডাক্তার ডাকিয়ে আমাকে চেক-আপ করালো। ডাক্তার জানালো, আমি কন*সিভ করেছি। চাচ্চু কড়া আদেশ দিয়েছেন- আমি যেন এই ভ্রুণ নষ্ট করে ফেলি। নিজের মায়ের হ*ত্যাকারী আর বোনের ধ*র্ষ*ণকারীর অংশ আমি নিজের ভেতের রাখবো? একজন সন্তানের জন্য এর থেকে বড় লজ্জার হয়তো আর কিছু হয় না।

আজ আমার নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। কেমন যেন ছেড়া কাগজের মতো ভাসছি আমি।'

পৃষ্ঠা নং- ৪৮...

এই মুহূর্তে একটা ভরসার কাঁধের খুব প্রয়োজন ছিলো আমার!'

পৃষ্ঠা নং- ৫১...

আমি আমার রুদ্রকে মারতে চায়নি। আমি আমার বেবিটাকে ন*ষ্ট করতে চায়নি। কিন্তু, আল্লাহ হয়তো তাকে আমার কাছে রাখতে চায়নি। তৈলাক্ত সিঁড়ি থেকে পা পিছলে পড়ার কারণে, চারদিন আগে আমি আমার বেবি টাকে হারিয়েছি!'

পৃষ্ঠা নং- ৫৪...

এতোদিন যাবৎ আমি যাকে আমার লাইফে সবথেকে বেশি বিশ্বাস করেছি। যাকে আব্বুর থেকেও বেশি শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালোবাসা দিয়েছি। কিছুক্ষণ আগেই আমি তার আসল রুপ চিনতে সক্ষম হয়েছি। আর সে সক্ষম হয়েছে, আমাকে ভেঙে চুরে ধ্বংস করে দিতে!'

পৃষ্ঠা নং- ৫৫...

আজকে যখন মেডিসিন নেওয়ার জন্য আমি হসপিটালে গেলাম। সেখানে আমার এক বান্ধবীর বোন লুইপা আপুর সাথে দেখা হলো। তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে আমি তাকে আমার অ্যাকসিডেন্টের ব্যাপারে জানালাম। পুরো ঘটনার বর্ণনা শুনে তিনি আমাকে একবার পরীক্ষা করাতে চাইলেন। আমিও আর তাকে না করলাম না।'

পৃষ্ঠা নং- ৫৬...

আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, লুইপা আপু জানালেন- আমি কখনোই অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম না। আমাকে এমন এক ধরণের মেডিসিন দেওয়া হয়েছিলো- যার প্রভাবে আমার মধ্যে প্রেগনেন্সি এর লক্ষ্মণ পরিলক্ষিত হয়েছে। কথাটা শোনার পর যেন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো।'

পৃষ্ঠা নং- ৫৭...

বাড়ি ফিরে আমি সোজা চাচ্চুকে জিজ্ঞেস করলাম- চাচ্চু আমার সাথে এমনটা কেন করলে? এত বড় প্রতারণা তুমি কীভাবে করতে পারলে আমার সাথে? কেননা, আমার স্পষ্ট মনে আছে- যেদিন আমি রুদ্রকে আঘাত করতে অস্বীকার করেছিলাম, তার ঠিক পরদিন থেকেই চাচ্চু রোজ রাতে আমার স্ট্রেস কমাতে একটা একটা পিল খাওয়াতো। যা আমি আজ বুঝতে পারছি, সেটা কোনো স্ট্রেস কমানোর পিল ছিলো না।'

পৃষ্ঠা নং- ৫৯...

তার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি জানতে পারি- এসবকিছু আসলে তার পূর্বপরিকল্পনা ছিলো। সে আসলে কখনোই চায়নি, আমি রুদ্রর সাথে হ্যাপি থাকি। অথবা, আমার লাইফে আমি পূর্ণতা অনুভব করি। আর সে জন্যই সে আমাকে ব্যবহার করে রুদ্রকে মারতে চেয়েছিলো। যেন রুদ্রকে হারানোর পর আমি পাগল প্রায় হয়ে যাই, ঠিক তার মেয়ের মতো। কিন্তু, আমি যখন রুদ্রকে আঘাত করতে অস্বীকার করি, ঠিক তখনি তিনি এই মিথ্যা প্রেগনেন্সির এর ঘটনাটা সাজান। যাতে করে আমি রুদ্রকে মারতে উদ্বুদ্ধ হই। এবং আমাকে বোঝান, রুদ্র আসলেই একজন রে*পি*স্ট। সে আমার আপুকে রে*প করেছে আর আমার সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে- আমাকেও ন*ষ্ট করেছে। আসলে, আমার চাচ্চু নিজেও জানতেন, 'রুদ্র নির্দোষ' ছিলো।'

পৃষ্ঠা নং- ৬১...

চাচ্চুর ভাষ্যমতে, আমার আম্মু চাইলেই সেদিন তার মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু, তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য তার মেয়েকে বির্সজন দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, সে আমার আম্মুর মেয়েকে অর্থাৎ আমাকে কখনোই সুখী হতে দিতে পারেন না। আমাকে সেই সব কষ্ট অনুভব করতে হবে, যা তার মেয়ে অনুভব করেছে। আর তার মেয়ে যেহেতু, সন্তানহারা কষ্টও অনুভব করেছে। তাই সে-ও আমার মিথ্যা গ*র্ভ*পাতের সূচনা করেছে!'

পৃষ্ঠা নং- ৬২...

আর এখন যেহেতু আমি সব সত্যটা জেনে গিয়েছি।তখন আর কোনো পরিকল্পনা মেনে নয়, আমাকে বাধ্য হয়েই রুদ্র'কে আঘাত করতে হবে। তবে এবারে আর কোনো ছোটখাটো আঘাতের আদেশ পায়নি আমি, আদেশ পেয়েছি সোজা হ*ত্যা*র!

আর যদি কোনোভাবে রুদ্র বেঁচে যায়, তাহলে আব্বু আর ছোট ভাই কোনোভাবেই বেঁচে থাকবে না।'

---

এতোটুকু পড়েই স্তব্ধ হলো রুদ্র। আর কোনো পাতা উল্টানোর সাহস সে পেলো না। দীর্ঘ একটা শ্বাস টেনে নিলো নিজের ভেতরে। যেন কিছু বলার ভাষা বা কিছু অনুভব করার শক্তি- দুইটাই সে হারিয়ে ফেলেছে। এমন অবস্থায় তার কানে শুধু একটা কথাই বারবার বাজতে লাগলো। হিয়া একবার বলেছিলো,,

"যদি কোনোদিন জানতে পারো, আমার যে ভুলের জন্য তুমি আমার সাথে এমন দুর্বব্যহার করো। আদৌতে আমি সেই ভুল কোনোদিন করিই-নি। তাহলে, সেদিন আমার সামনে দাঁড়াতে পারবে রুদ্র??"

কিন্তু, হিয়ার সামনে দাঁড়াতে হলেও তো রুদ্রর এখন হিয়াকে প্রয়োজন। কিন্তু, সে কোথায় পাবে তাকে? হঠাৎ কিছু একটা মাথায় আসলো রুদ্রর। সে পুনরায় ডায়েরিটা আবার খুলল। যেখানে ৬৩ নাম্বার পৃষ্ঠাতে একটা লাইন এমন ছিলো,,

"আমি আমার রুদ্রকে আঘাত করেছি ঠিকই। কিন্তু, আমি জানি আমার রুদ্র'র কিছুই হবে না। আমি ওকে ততোটা গভীর চাকু মারিনি, যতোটা গভীর চাকু মারলে ওর প্রাণ সংশয় হতে পারে। তাছাড়া, আমি আমার সবথেকে বিশস্ত দুই বন্ধু সৌরভ আর জয়কে বলে রেখেছি- যেন আমি জঙ্গল থেকে বেরোনো মাত্রই ওরা রুদ্র'কে নিয়ে যায়। কেননা, আমার সাথে আহনাফ ছিলো। যে চাচ্চুর খুব বিশ্বস্ত লোক!'

-

এতোটুকু পড়ে রুদ্র আবার ডায়েরি'টা বন্ধ করলো। মনেমনে আশ্বস্ত হলো হিয়া হয়তো সৌরভ বা জয়ের বাড়িতে থাকতে পারে। সে ঘড়ির দিকে তাকালো একবার, এখন রাত ৩টা বাজে। এতোরাতে সে কখনোই তাদের বাড়ি খুঁজে পাবে না। তাহলে, সে কাল সকালেই বেরোবে হিয়ার উদ্দেশ্য।

হিয়ার সাথে তার আবার দেখা হবে, এটা ভাবতেই মনে মনে এক চিলতে হাসলো সে।'

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন